লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাস আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ লেখায় বিশ্বকাপ-সংক্রান্ত শেয়ার বিক্রি থেকে ফিফার সরে আসা নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের আগের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির কঠোর জবাব দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, রিয়াল আবার লা লিগার অর্থায়ন চুক্তিকে ইস্যু বানিয়ে দ্বিমুখী মানদণ্ড প্রয়োগ করছে।

লেখার শুরুতে রিয়ালের বিবৃতির প্রথম অংশের যৌক্তিকতা স্বীকার করে তেবাস বলেন, “রিয়ালের বিবৃতির প্রথম অংশটি নিখুঁত: ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে ফিফা একতরফাভাবে ফুটবলের ভবিষ্যৎ আয় হস্তান্তর করতে পারে না, কারণ পরিচালন ব্যয় ও ঝুঁকি ক্লাবগুলোকেই বহন করতে হয়।”
এরপর প্রশ্ন তুলে তেবাস বলেন, “রিয়ালের প্রতিক্রিয়া জানাতে এত সময় লাগল কেন? ফাইনাল পর্ব চলার সময় ইউরোপীয় সুপার লিগ কোম্পানির কর্মকর্তারা নিউইয়র্কে কী করছিলেন? এটা কি শুধুই কাকতালীয়? জানা গেছে, আগের ইউরোপীয় সুপার লিগের মতো এই লেনদেনেও জেপি মরগান যুক্ত ছিল।”
রিয়ালের বিবৃতিতে লা লিগা ও সিভিসির অর্থায়ন চুক্তিকে আবার আক্রমণ করার জবাবে তেবাস বলেন, “দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ থেকেই রিয়াল পুরোনো কাজে ফিরে সিভিসি চুক্তিকে বড় ইস্যু করেছে। সিভিসির সহযোগিতা পুরোপুরি স্বেচ্ছামূলক; প্রতিটি ক্লাব স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রিয়াল এতে যোগ দেয়নি, তাই তারা এর বাধ্যবাধকতার আওতায় নেই এবং তাদের ভবিষ্যৎ আয়ের এক পয়সাও নেওয়া হয়নি। অধিকাংশ ক্লাবের ভোটে চুক্তিটি অনুমোদিত হয়েছে—এটাই রিয়ালের ঘোষিত ‘স্বায়ত্তশাসন’ রক্ষার বাস্তব প্রয়োগ।”
“একদিকে রিয়াল অন্য ক্লাবের ভবিষ্যৎ আয় বন্ধক রাখার কঠোর সমালোচনা করে, অন্যদিকে নিজেরাই সান্তিয়াগো বার্নাবেউয়ের ভবিষ্যৎ আয় বন্ধক রেখেছে এবং স্টেডিয়ামের নির্দিষ্ট পরিচালন অধিকার ২০ বছরের জন্য বেসরকারি তহবিলের হাতে দিয়েছে। এমনকি প্রায় এক বছর ধরে বাইরের বিনিয়োগকারীদের রিয়ালে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও করছে—এটি বেশ স্ববিরোধী।”
“দ্বিমুখী এই তত্ত্ব খুব সহজ: রিয়াল কোনো সিদ্ধান্ত নিলে সেটি ‘আধুনিকায়ন ও আর্থিক কৌশল’; অন্য ক্লাব একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে তা হয়ে যায় ‘নিজেকে বিক্রি করে বন্ধক রাখা’। লা লিগাকে নিয়ে রিয়ালের এই মোহের সঙ্গে সম্ভবত বছরের পর বছর মামলায় তাদের বারবার হারের সম্পর্ক আছে। লা লিগা সভাপতিকে ‘সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করার’ লক্ষ্যে করা তাদের অভিযোগগুলো বারবার ব্যর্থ হওয়াও এর বাইরে নয়।”
লেখার শেষে তেবাস বলেন, “এই ‘ততটা উচ্চাসনে না থাকা সত্তা’ এখন ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে নির্দেশনা দেওয়ার সব বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। ইউরোপীয় সুপার লিগ একসময় বলেছিল, ‘ফুটবল দেউলিয়া হতে চলেছে, তাই আমরা ফুটবলকে বাঁচাতে এসেছি’—মনে আছে? কী অসাধারণ দূরদৃষ্টি!”