ফরাসি সংবাদমাধ্যম ‘লেকিপ’ এমবাপ্পেকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এমবাপ্পের জন্য সামনের কয়েক সপ্তাহ এই মৌসুমের, এমনকি পুরো ক্যারিয়ারেরই একটি মোড় ঘোরানো সময় হতে পারে।

লেকিপের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে:
এই শরতের শুরুটা সবার জন্য মসৃণ ছিল না। স্পেনে এলচের বিপক্ষে ম্যাচের আগে এমবাপ্পে সেউতার প্রতি সংহতি জানিয়ে একটি টি-শার্ট পরেছিলেন এবং একাংশের চাপের কাছে মাথা নত করতে অস্বীকার করায় সমালোচিত হন। ফ্রান্সে ফিরে জিদানের প্রথম ক্যাম্পে অপ্রত্যাশিতভাবে ফ্রান্স দলের আক্রমণভাগ নতুন করে সাজানো হয়, এমবাপ্পেকে বাঁ দিকে সরিয়ে মাঝখানের জায়গাটি দেম্বেলেকে দেওয়া হয়। এভাবেই এমবাপ্পে শরতে প্রবেশ করেছেন, যেন একটা গাছের ডালে ঝুলে আছেন আর আশা করছেন মটমট শব্দে ডালটা ভেঙে না যায়।
এমবাপ্পে তার কোনো অবস্থানের জন্যই অনুতপ্ত নন, আর তিনি এটাও ভালো করে জানেন যে সামনের কয়েক সপ্তাহ তার মৌসুমে, এমনকি ক্যারিয়ারেও নতুন পরিবর্তন আনতে পারে। তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্যমতে, তিনি শান্ত মন নিয়েই এই সময়ে প্রবেশ করছেন। তিনি জানেন রিয়াল মাদ্রিদের জীবন কখনোই এক শান্ত দীর্ঘ নদী নয়, আর এটাও জানেন যে সবকিছু খুব দ্রুত উল্টে যেতে পারে।
সপ্তাহের মাঝামাঝি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রোমার মাঠে খেলা হলো প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লিগ পর্বের প্রথম রাউন্ডে ইন্টার মিলানকে ২-১ গোলে হারানোর ম্যাচে এমবাপ্পে নির্ণায়ক ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বোঝেন, ইন্টারের বিপক্ষে লড়াই ছিল লিগ পর্বে রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচের একটি, অন্যটি ডিসেম্বরে লন্ডনে আর্সেনালের বিপক্ষে। এই দুটি ম্যাচের কোনোটিই হারা চলবে না, নইলে রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তৃতীয়বার প্লে-অফে নামতে হবে।
এই দুই ম্যাচের মাঝে ও পরে, নিজেদের মাঠে লিনৎসের বিপক্ষে ম্যাচ এবং লন্ডনে আরেকটি সফর, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে শাখতার দোনেৎস্কের বিপক্ষে খেলা, এগুলো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে জয় পাওয়া এবং গোল করা, ঠিক যেমন ইন্টারের বিপক্ষে করেছিলেন, তাতে প্রথম পর্যায়ে ক্লাবের সামগ্রিক, বিশেষ করে তাকে ঘিরে থাকা উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। মরিনিও সাধারণত এমবাপ্পের পক্ষেই কথা বলেন, দুজনের মধ্যে একরকম বোঝাপড়া আছে।
কিন্তু এই ব্যস্ত সূচির গতি এখানেই কমবে না। সপ্তাহান্তে রিয়াল মাদ্রিদ নিজেদের মাঠে সেভিয়ার মুখোমুখি হবে, যারা লিগে তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। তার এক সপ্তাহ পর প্রতিপক্ষের মাঠে বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলা, মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকো সবার মনোযোগ কেড়ে নেবে। এই দুটি ঘরোয়া লড়াই রোমার ম্যাচের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে। রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর থেকে বার্সার মাঠে তিনি এখনো সত্যিকার অর্থে জয় করতে পারেননি। বার্সার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের সর্বশেষ জয় সেখানে ২০২৩ সালের অক্টোবরে। এমবাপ্পেকে আতশকাচ দিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হবে।
বার্সার বিপক্ষে এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে গোলের সংখ্যা ১২টি, যার অর্ধেক রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে। রিয়াল মাদ্রিদের সর্বশেষ এল ক্লাসিকো জয়েও এমবাপ্পে গোল করেছিলেন, ২০২৫ সালের অক্টোবরে ২-১ গোলের জয়ে। পুরো বছরে এমবাপ্পের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান অবিশ্বাস্য, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতায় ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল, কিন্তু ব্যালন ডি’অর জেতার জন্য কি এটা যথেষ্ট?
এল ক্লাসিকোর পরের দিনই এমবাপ্পে উত্তর জেনে যাবেন। আসলে তার প্রথম লন্ডন সফর সম্ভবত হবে ২৬ অক্টোবর সোমবার, ব্যালন ডি’অর পুরস্কার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। ট্রফিটি যদি তার হাতে ওঠে, তাহলে এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে যুক্ত হবে আরও একটি মাত্রা।
ব্যালন ডি’অর জিতলে নভেম্বরে ফ্রান্স দলে আবার ফেরার সময় সেপ্টেম্বরে হারিয়ে ফেলা হাসিটুকুও তিনি ফিরে পেতে পারেন। সে সময় কৈশোরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেম্বেলের সঙ্গে এমবাপ্পের সম্পর্কে ফাটল দেখা দিয়েছিল। এ ছাড়া নভেম্বরের মধ্যে ক্লাবে সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবে তিনি কত গোল করেন তার ওপর নির্ভর করে হয়তো জিদানের সঙ্গে আলোচনা করার সুযোগও পাবেন, তার সবচেয়ে কার্যকর পজিশন আসলে কোনটি।